আবহাওয়া বদলালে যেমন আমাদের পোশাক, খাবার কিংবা জীবনযাপনের ধরণে পরিবর্তন আসে, তেমনি বদলে যায় ঘরের সাজসজ্জাও। ঋতুর সঙ্গে মিলিয়ে ঘরের ভেতরটাকে নতুনভাবে সাজালে তা যেমন দেখতেও সুন্দর লাগে, তেমনি বাসাও হয়ে ওঠে আরামদায়ক ও প্রাণবন্ত।

বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুর মধ্যে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। তাই ঋতুর মেজাজ ও আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঘরের রং, আসবাবপত্র, পর্দা, কুশন, বিছানার চাদর ও অন্যান্য সজ্জাসামগ্রী বদলে নেওয়া জরুরি।

রঙের ছোঁয়ায় ঋতুর আমেজ :

ঋতু অনুযায়ী ঘরের রঙে আনুন বৈচিত্র্য।

গ্রীষ্মে: হালকা ও উজ্জ্বল রং যেমন সাদা, হালকা নীল, সবুজ বা প্যাস্টেল টোন ঘরকে রাখবে শীতল।

বর্ষায়: গাঢ় ও উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার ঘরে আনবে প্রাণবন্ততা।

শরতে: কাশফুলের মতো হালকা ও উজ্জ্বল রঙে সাজান ঘর, যা ঋতুর স্নিগ্ধতা ফুটিয়ে তুলবে।

শীতে: উষ্ণ ও গভীর রঙ যেমন মেরুন, বাদামি বা গাঢ় সবুজ ঘরে আনবে আরামদায়ক উষ্ণতা।

বসন্তে: হালকা গোলাপি, হলুদ বা সবুজের ছোঁয়ায় ঘরে আনুন সতেজতা ও নবজীবনের অনুভূতি।

 ফার্নিশিং বদলান ঋতুর সঙ্গে :

ঘরের পর্দা, সোফা কাভার, কুশন ও বিছানার চাদরে ঋতুর ছোঁয়া আনলে বদলে যাবে পুরো ঘরের পরিবেশ।

গ্রীষ্মে: ব্যবহার করুন হালকা ও সুতির কাপড়, যাতে বাতাস চলাচল সহজ হয়।

বর্ষায়: ভারী পর্দা ও কার্পেট ব্যবহার করে ঘরে আনুন আরাম ও ভারসাম্য।

শীতে: ঘন বুননের, ভারী কাপড়ের পর্দা ও গাঢ় রঙের ব্যবহার ঘরকে রাখবে উষ্ণ।

 সাজসজ্জায় ঋতুর রঙিন ছোঁয়া :

বিভিন্ন সজ্জাসামগ্রীর মাধ্যমে ঘরে আনতে পারেন ঋতুর আমেজ।

গ্রীষ্মে: উজ্জ্বল রঙের কুশন, ফুলদানি ও ইনডোর গাছ ঘরে রাখলে বাড়বে সতেজতা।

বর্ষায়: ছোট ছাতা বা বৃষ্টির অনুষঙ্গের মতো সজ্জাসামগ্রী রাখলে ঘরে আসবে বর্ষার আবহ।

শরতে: অ্যাকর্ন, শুকনো ফুল বা ছোট কুমড়োর মতো শোপিস ঘরকে দেবে মৌসুমি ছোঁয়া।

শীতে: মোমবাতি, ফায়ারপ্লেস বা হলদেটে আলো ব্যবহার করে ঘরে আনুন উষ্ণতার পরিবেশ। কার্পেটের ওপর নরম রাগস ব্যবহার করলেও ঘর হবে আরামদায়ক।

বসন্তে: ঘরের কোণে রাখুন রঙিন ফুল ও পাতাবাহার, যা ঘরে আনবে প্রাণবন্ততা ও সজীবতা।

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে ঘরের সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে আপনি বাড়িতে তৈরি করতে পারেন নতুন এক আবহ-যেখানে থাকবে সৌন্দর্য, আরাম ও ঋতুর মেজাজের নিখুঁত মেলবন্ধন।